সারা বাংলা রাজশাহী সিরাজগঞ্জ
সিরাজগঞ্জে কোটি কোটি টাকায় সেতু নির্মাণ, কিন্তু সড়ক না থাকায় দূর্ভোগে সাধারণ মানুষ
২৬ বাংলা টিভি 23-Nov-2025 42
সিরাজগঞ্জে কোটি কোটি টাকায় সেতু নির্মাণ, কিন্তু সড়ক না থাকায় দূর্ভোগে সাধারণ মানুষ
ইউসুফউজ্জামান ইমরান, সিরাজগঞ্জ থেকে :
সিরাজগঞ্জে খাল পারাপারের সুবিধা বাড়াতে আড়াই বছর আগে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের একডালা গ্রামে পাশাপাশি দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ৩২ ও ৪৪ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু দুটির পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। কিন্তু সেতুর দু’প্রান্তে সংযোগসড়ক না থাকায় আজও কোনো যানবাহন সেতুটি ব্যবহার করতে পারছে না। ফলে সেতু দু’টি এখন ধান, খড় আর গোবর শুকানোর জায়গায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুড়ালিয়া দিয়ার–একডালা প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়কটি দিয়ে রতনকান্দি ও কাজিপুরের শুভগাছা ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ চলাচল করে। রাস্তা না থাকায় কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী আনা–নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল–কলেজে যাতায়াত—সবকিছুতেই মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়, অনেক সময় পথ চলাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এলাকার বৃদ্ধ আইনাল সেখ বলেন, রাস্তা না থাকায় সেতুর কোনো ব্যবহারই নেই। তিনি জানান, বৃষ্টি বা বন্যার সময় এই পথে হাঁটাও কষ্টকর। স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল সরকার জানান, ২৫ বছর আগে বন্যায় রাস্তা ভেঙে যাওয়ার পর আর নতুন করে নির্মাণ হয়নি। কর্মকর্তারা মাপঝোঁক করে গেলেও কাজের অগ্রগতি নেই।
রাস্তা না থাকায় কৃষকরা সময়মতো সার-বীজ আনতে পারেন না, ফসল হাটে তুলতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়। পথ ঘুরে যাওয়ায় খরচ বাড়ে, ফলে ন্যায্যমূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন কাদা ও ভাঙা পথ পাড়ি দিয়ে স্কুল–কলেজে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
এলাকার কৃষক ফরহাদ আলী অভিযোগ করেন, রাস্তা ছাড়া সেতু নির্মাণ করে কোনো লাভ হয়নি। আগে রাস্তা করা হলে সেতু দু'টি ব্যাবহার হতো। কৃষক শাহীন জানান, যাতায়াত না থাকায় সেতুতেই এখন ধান-খড় শুকানো হয়।
সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমান জানান, সেখানে সরকারি কোনো রাস্তা নেই। তিনি বলেন, এলাকাবাসী জমি দিলে রাস্তা র্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
news@26banglatv.com